Shamsunnessa Arju Moni


হামিদা সেরনিয়াবাত (বিউটি)

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কৃষকনেতা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত এর কণ্যা বেগম সামসুন নেছা আরজু বাংলা ১৩৫৩ সনের ১লা চৈত্র (১৫ই মার্চ, ১৯৪৭ইং) অবিভক্ত ভারতের কলিকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 

ভারত বিভক্তের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হলে জনাব সেরনিয়াবাত চলে আসেন নিজ জেলা শহর বরিশালে। এখানেই বেগম আরজু বাল্যকাল অতিবাহিত করেন। শুরু হয় শিক্ষা জীবন। বরিশাল সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৪ সনে মাধ্যমিক এবং বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্মাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি মহিলা কলেজ ছাত্রী সংসদের জি,এস নির্বাচিত হন। পিতার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। পিতা জনাব সেরনিয়াবাত ¯েœহের কন্যাকে সময় পেলেই রাজনীতির খুটিনাটি বিষয়ে শিক্ষা দিতেন। পিতার কাছে থেকেই তাঁর রাজনীতির হাতে খড়ি। 

১৯৬৯’এ তৎকালীন প্রখ্যাত ছাত্রনেতা শেখ ফজলুল হক মণির সাথে বেগম আরজু বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৬৯’ এর গণআন্দোলনের প্রচন্ড চাপে পাকিস্তানের কারাগার থেকে শেখ মণি মুক্তি পেলেন। এর কয়েকদিন পরই ২৪শে ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯, টুঙ্গিপাড়ায় এক অনাড়াম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শেখ মণির সাথে বেগম আরজুর বিবাহ সম্পন্ন হয়। 

পড়াশুনার প্রতি ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব, রাজনৈতিক         ব্যস্ততা,দু’টি সন্তানকে লালন পালন করা, এই সবকিছুর মাঝেও তাঁর প্রবল ইচ্ছা ছিল কিভাবে মাস্টারস ডিগ্রীটা অর্জণ করা যায়। তাই বিলম্ব হলেও সকল প্রতিকুল অবস্থাকে অতিক্রম করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে এম.এ. ভর্তি হন এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু ফলাফল দেখে যাওয়ার সুযোগ তিনি পাননি। ১৫ই আগষ্ট এর সেই ভয়াল কালরাতে ঘাতকরা একই সাথে হত্যা করে শেখ মণি ও তাঁর অন্ত:স্বত্বা স্ত্রী আরজু মণিকে। 

তিনি ছিলেন শিশুর মত সরল, মিতভাষী, নিরঅহংকারি, নিষ্পাপ সৌন্দর্যের প্রতিক এক আদর্শময়ী নারী। কাউকে মনে আঘাত দিয়ে কোন কথা তিনি বলতে পারতেন না। মানুষের প্রতি ছিল তাঁর অগাধ মমত্ববোধ, বিশেষভাবে দুঃস্থ, অসহায়, এতিম ও বৃদ্ধলোকদের দেখলে তিনি খুবই ব্যথিত ও বিচলিত হতেন। মাঝে মাঝে শিশুর মত প্রশ্ন করতেন, বলতেন সব মানুষইতো আল্লাহর সৃষ্টি তবে কেন আল্লাহ ওদের এত কষ্ট দেন? বলতেন যেসব শিশুদের মা, বাবা নাই পৃথিবীতে তাদের মতো দুঃখী আর কেউ নাই। 

ঘাতকের নিষ্ঠুর ছোবলে নিজের দুই শিশু সন্তানকে এতিম করে যাবেন বলেই হয়তো নিজের অজান্তে এতিমদের প্রতি তাঁর এই দুঃখবোধ জাগ্রত হয়েছিল, মৃত্যু সময়ে তাঁর শেষ আকুতি ছিল “আমার সন্তান দু’টোকে তোমরা দেখো”.................।